
অবৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান বন্ধের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি) লাইসেন্স দেয়া হয়। ওই বছর দুই ধাপে মোট ৮৮১টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছর মেয়াদি ভিএসপি লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এ হিসাবে আগামী বছরের মাঝামাঝি শেষ হচ্ছে এসব লাইসেন্সের মেয়াদ। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের মার্চে ৮৪০টি ও একই বছরের আগস্টে আরো ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে ভিএসপি লাইসেন্স দেয়া হয়। ফলে পাঁচ বছর মেয়াদের এসব লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে যথাক্রমে আগামী বছরের মার্চ ও আগস্টে। এদিকে ব্যবসায়িক সক্ষমতা অর্জন না করায় লাইসেন্স ফি ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অবস্থায় ভিএসপিগুলোর ভবিষ্যৎ লাইসেন্স নবায়নসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনার জন্য কমিশনের লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে আট সদ্যস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে সম্প্রতি। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিতে এ-বিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
বিটিআরসির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভিএসপি লাইসেন্সের এককালীন ফি নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে আড়াই লাখ টাকা করে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। এর সঙ্গে রয়েছে ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর। এছাড়া বার্ষিক লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য দেয়া এ লাইসেন্স পরবর্তীতে দুই বছর পর পর নবায়ন করা যাবে।
লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুযায়ী আয়ের ১০ শতাংশ সরকারকে দেয়ার কথা ভিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর। কিন্তু ব্যবসায়িক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারায় বার্ষিক লাইসেন্স ফি মওকুফের পাশাপাশি আয় ভাগাভাগির অংশ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করে এসব প্রতিষ্ঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম বছরের লাইসেন্স ফি মওকুফ ও দ্বিতীয় বছরের লাইসেন্স ফি কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য একাধিকবার চিঠিও দেয় কমিশন। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ভিএসপির দ্বিতীয় বছরের লাইসেন্স ফি ৫০ হাজার ও আয় ভাগাভাগি ১০ শতাংশ হারে আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (বিএভিএসপি) সূত্রে জানা গেছে, ভিএসপিগুলো ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করার কথা। কিন্তু লাইসেন্স পেলেও টেলিযোগাযোগ কাঠামোয় ভিএসপির অবস্থান নির্দিষ্ট না করায় এবং আইজিডব্লিউর সঙ্গে আয়ের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ভিএসপিগুলো শুরুতেই বিপাকে পড়ে। ফলে যথাসময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় ভিএসপিগুলো দুই বছরের জন্য লাইসেন্স ফি মওকুফের আবেদন করে।
পরে আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) চালুর পর আবারো জটিলতায় পড়ে ভিএসপিগুলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভিএসপি বরাদ্দের বিষয়ে নতুন করে নির্দেশনা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইজিডব্লিউর আওতায় ভিএসপির কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য প্রতিটি আইজিডব্লিউর বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিএসপি বরাদ্দ দেয়া হয়। ভিএসপিগুলোর কাছ থেকে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। আইওএফের আওতায় থাকা সব আইজিডব্লিউর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল বিবেচনা করে ভিএসপি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। আইজিডব্লিউ মাধ্যমে আয় ভাগাভাগির অংশ দিচ্ছে ভিএসপিগুলো।
বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ভিএসপি লাইসেন্সের বিপরীতে বার্ষিক ফি আদায়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তাগাদা দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই লাইসেন্স ফি আদায়ের উদ্যোগ নেয় কমিশন। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রথম বছরের লাইসেন্স ফি মওকুফ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় বছরের ফি কমিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে কমিশন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত দ্বিতীয় বছরের ফি ৫০ হাজার টাকা ও আয় ভাগাভাগি ১০ শতাংশ হারে আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের জুলাইয়ে ভিএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করে বিটিআরসি। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ আবেদন গ্রহণ করা হয়। লাইসেন্স নিতে মোট ১ হাজার ৫০৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে এক হাজার চারটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য অনুমোদন দেয় কমিশন। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ করে ৮৮১ টি প্রতিষ্ঠান।
বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ২৯ জুন, ২০১৭ | নিউজ লিংক



