Interview

আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ডিএসসিসি সুশাসনে এগিয়েছে অনেক দূর

ব্যা‌রিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ নেন ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। পেশায় আইনজীবী এ আওয়ামী লীগ নেতা তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয় মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ডিএসসিসিতে নানা ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করেছেন। এ নিয়ে রয়েছে তার নানা পরিকল্পনাও। সেসব নিয়েই কথা বলেছেন

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দুই বছর পার হয়নি। এর মধ্যে ভালো-খারাপ মিলিয়ে অনেক ধরনের অভিজ্ঞতাই হয়েছে। মেয়র হিসেবে কোন বিষয়টা আপনার জন্য স্বস্তির বলে এখন পর্যন্ত মনে হয়েছে?

যেকোনো সংস্থা বা সরকারের জন্য পরিবর্তনের দুটো ক্ষেত্র রয়েছে। একটি হলো অন্তর্নিহিত সংস্কার, যেমন মানবৃদ্ধি, সুশাসন ইত্যাদি। আরেকটি হলো দৃশ্যমান অবকাঠামো। দ্বিতীয় ক্ষেত্রটিতে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে সে দাবি করার সময় এখনো আমাদের আসেনি। তবে অন্তর্নিহিত সংস্কার তথা সুশাসনের জায়গায় অনেক দূর এগিয়েছি।

এখন আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, বাংলাদেশের যেকোনো করপোরেশন থেকে, যেকোনো সংস্থা থেকে আমরা ভিন্ন। আমরা নিজেরাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রকল্পনির্ভর পরিকল্পনা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। যেকোনো কাজ এখন আমরা নিজেদের অর্থায়নেই করতে পারছি। করোনাকালেও রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৭০৩ কোটি টাকা, যা করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। করপোরেশনের নিজস্ব আমানত আছে, যা আগে কখনো চিন্তাও করা যেত না।

সুশাসনের জায়গায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন আর কেউ বলতে পারবে না যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দুর্নীতির অভয়ারণ্য। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কাজের স্পৃহা বেড়েছে। আগে অফিসে আসার ক্ষেত্রে অনেকেই সময় মানতেন না। কারণ কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। এখন সবাই জানে যে মেয়র নিজেই ৯টার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে চলে আসেন। তিনি যে কারো খোঁজ করতে পারেন। ফলে সবাই সময়মতো অফিসে আসছেন।

গত ১০ বছর কাউন্সিলররা কোনো ধরনের উন্নয়নকাজে অংশ নিতে পারতেন না। আমি ক্ষমতা গ্রহণের পর ১০০ কাউন্সিলরের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছি। চলতি বছরও একই পরিমাণ বরাদ্দ আছে। এসব অর্থ তাদের চাহিদার আলোকে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় হবে। এ ব্যবস্থাটা আগে ছিল না। কাউন্সিলরদের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়ার ফলে এলাকার ছোটখাটো সমস্যাগুলোও চিহ্নিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও জনগণ সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। ফলে দ্রুত সেসব সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নের যে কাজগুলো বাকি ছিল সেগুলো প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঢাকাকে ঘিরে আমরা মহাপরিকল্পনা করছি। আইনে বলা আছে, সিটি করপোরেশনের অন্যতম কাজ নগর পরিকল্পনা। কিন্তু গত ৫০ বছরে ঢাকাকে নিয়ে কোনো মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়নি। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটা মহাপরিকল্পনা করেছিল ১৯৯৬ সালে, সেটার কোনো কার্যকরী ফল ঢাকাবাসী পায়নি।

আমাদের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এরই মধ্যে পরামর্শক নিয়োগ হয়ে গেছে, তারা কাজেও হাত দিয়েছেন। মূলত ২০৫০ সালে আমরা কেমন শহর চাই, সে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। আগামী ৩০ বছর পর এ শহরটা কি জনসংখ্যার ভারে নুয়ে পড়বে, নাকি একটি আধুনিক পরিবেশসম্মত শহর হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখন থেকেই তৈরি করতে হবে। আমরা চাই শুধু জনসংখ্যার দিক থেকেই নয়, সেবার মানের দিক থেকেও শহরটি বড় হবে।

পাশাপাশি শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একটি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল স্থাপন করব। সব বড় শহরেই একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র থাকে। আদি ঢাকার কথা বললে চকবাজার ছিল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। যদিও চকবাজারে এখনো ব্যবসা হচ্ছে, কিন্তু সেখানের পরিবেশ আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মতো না। এরপর মতিঝিলের কথা বলা যায়। মতিঝিলও ঢাকার বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু মতিঝিলেও আগের সেই মহিমা এখন আর পাওয়া যায় না। সে কারণে ২০৫০ সালে ঢাকাবাসীর যে চাহিদা হবে, তা মাথায় রেখে আমরা আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি।

নতুন আবাসন নিয়েও আমাদের পরিকল্পনা আছে। ঢাকার এ অংশে নতুন করে কোনো আবাসন বা অভিজাত এলাকা গড়ে ওঠেনি। শহরটা বেড়েছে উত্তরের দিকে। গুলশান, বনানী, পূর্বাচল যা-ই দেখেন সবই উত্তরের দিকে। ফলে অভিজাত বাসিন্দারা চলে যাচ্ছেন ওইসব এলাকায়। তাই দক্ষিণ অংশেও অভিজাত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় নিয়েও ভাবছি।

নাগরিক সমস্যা সমাধানে কতটুকু সফলতা এসেছে?

জলাবদ্ধতা আমাদের একটি বড় সমস্যা ছিল। এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার পরও নগরবাসীকে জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয়নি। খালগুলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০ লাখ টন বর্জ্য ও পলি অপসারণ করার ফলে এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি সম্ভব হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এ সমস্যা আরো কমে আসবে। খালগুলো নিয়ে আমাদের বড় পরিকল্পনা আছে। প্রতিটি খালের পাড় সংরক্ষণ, দৃষ্টিনন্দন হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর পথ ও বসার বেঞ্চ থাকবে। অর্থাৎ খালগুলো হবে বিনোদন ও অবকাশযাপনের কেন্দ্র।

প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেটি বাস্তবায়নের পথে কতদূর এগিয়েছেন?

খেলার মাঠের জন্য জমি পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। অধিকাংশ খাস জমি কোনো না কোনো সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনোটা আবার দখল হয়ে আছে। দখলে থাকা জমিগুলো আমরা উদ্ধার করছি, আর যেসব জমি অন্য সংস্থার বলে দাবি করা হচ্ছে, সেগুলো আইনিভাবে মোকাবেলা করা হচ্ছে। যেমন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত আলিয়া মাদ্রাসার পাশের মাঠটি দুটি সরকারি সংস্থা দাবি করছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে মাঠটি তাদের, কারা কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের। অথচ মাঠটির মূল মালিক দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণপূর্তের একটি পরিত্যক্ত জমি পেয়েছিলাম, সেখানে কাজ শুরু করার পর গণপূর্ত আমাদের বাধা দেয়। ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের একটি জমি ছিল, র্যাব সেখানে ভবন তুলছে, আমরা আর কাজ করতে পারিনি। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তাঙ্গনের জমিটি দখলে ছিল দীর্ঘদিন। আমরা দখলমুক্ত করেছি, আবার দখল করেছে। এভাবে অনেকবার জমিটি নিয়ে দখল-বেদখল খেলা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমরা সফল হয়েছি ও কাজ শুরু করতে পেরেছি।

এ ধরনের প্রতিকূলতা নিয়েই আমাদের কাজ এগিয়ে নিতে হচ্ছে। এত প্রতিকূলতা ডিঙিয়েও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে নতুন করে খেলার মাঠ করতে পেরেছি আমরা। যেমন ২, ৪, ১৩, ২৭, ২৯, ৩৯, ৪২, ৪৪, ৪৬, ৬৪ ও ৭০ নং ওয়ার্ডে নতুন করে খেলার মাঠের কাজ চলছে। কোথাওবা মাঠ প্রস্তুত হয়ে গেছে। শিশুরা সেখানে খেলছেও। আমি ঘোষণা করেছিলাম, প্রতিটি ওয়ার্ডেই খেলার মাঠ হবে। মহাপরিকল্পনা শেষ হলে আমরা বুঝতে পারব, শতভাগ কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে আরো কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এখন পর্যন্ত আমরা লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে চলছি।

নতুন সংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে এখনো নাগরিক সেবা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। এ ব্যাপারে কী পরিকল্পনা আছে?

নতুন ওয়ার্ডগুলো নিয়ে আমরা মহাপরিকল্পনা করছি। যেহেতু ওই এলাকাগুলোতে এখনো পুরোপুরি নগরায়ণ হয়নি, ফলে পরিকল্পনামাফিক এগোতে না পারলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়বে। এরই মধ্যে বেশকিছু সড়ক নির্মাণ হয়েছে। ধীরে ধীরে সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে।

আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল উদ্ধার সম্পর্কে জানতে চাই।

আমাদের প্রাথমিক জরিপকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমরা পরামর্শক নিয়োগ করব। আমরা আশাবাদী, আগামী মার্চের মধ্যেই আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল উদ্ধারের কাজ শুরু করতে পারব। এজন্য পুনঃখনন করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চলটিও বুড়িগঙ্গাকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা করছি। আনন্দের কথা হলো, প্রাথমিক জরিপ ও পরামর্শক নিয়োগের কাজটি আমাদের নিজস্ব অর্থায়নেই করা হচ্ছে। যদিও এটি একটি বৃহৎ পরিকল্পনা, আমরা পুরো পরিকল্পনাটি সরকারের কাছে জমা দেব। এটি বড় বাজেটের কাজ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে আমরা ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল উদ্ধার প্রকল্পের জন্য। আমাদের টার্গেট হলো নিজস্ব অর্থায়নে যতটুকু সম্ভব কাজ এগিয়ে রাখব, বাকি কাজ সরকারি প্রকল্প সহায়তা পেলে শেষ করব।

লক্ষ করলে দেখবেন, আমাদের দুদিকেই নদী। নদীর অবস্থাগুলো খারাপ, পাশাপাশি নদী থেকে শহর দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এ বিষয়টি নিয়েও কাজ করতে চাচ্ছি। আমাদের বেড়িবাঁধের সড়কটি এখন দুই সারিতে আছে, আমরা সেটি ছয় সারিতে প্রশস্ত করতে চাই। শীতলক্ষ্যার যে অংশটি আমাদের সঙ্গে নতুন যুক্ত হয়েছে, সেখানে পাড় সংরক্ষণসহ প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করব। ওই সড়কগুলো হলে যানজটের চাপ ঢাকা থেকে পুরোপুরিই কমে যাবে।

ঢাকা দক্ষিণে এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে গিয়েছিল। এ বিষয়ে কী বলবেন?

আমি মনে করি, ডেঙ্গু নিয়ে আমরা অনেক অপপ্রচার ও অপরাজনীতির সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু পরিসংখ্যান বলে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি আমরা স্বাভাবিক রাখতে পেরেছি। আমাদের ১ হাজার ৫০ জন জনবল, ১০০ জন কাউন্সিলর, ১০ জন আঞ্চলিক কর্মকর্তা, ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মশক শাখার পূর্ণ জনবলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু মোকাবেলায় আমরা সফল হয়েছি। সফল এ অর্থে যে ২০১৯ সালের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি আমাদের দেখতে হয়নি। ২০১৯ সালে ১ লাখ ৫৫ হাজার জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল, আমরা সে সংখ্যা ১০ ভাগের নিচে রাখতে পেরেছি।

ঢাকায় শোষণক্ষম ভূমি কমছে, ফলে জলাবদ্ধতা দূর হলেও জলজট থাকছেই। এ সমস্যা সমাধানে কী ভেবেছেন?

ওয়াসা যখন আমাদের খালগুলো বুঝিয়ে দিল, একদিনের মাথায় আমরা খাল-কালভার্টগুলো পরিষ্কারে নেমে গেছি। আমাদের যত যান যন্ত্রপাতি ও লোকবল আছে, সব একযোগে নিয়োজিত করেছি। ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা পান্থপথ বক্স কালভার্ট, সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, জিরানি খাল, শ্যামপুর খাল, মান্ডা খাল, তিতাস খাল, কুতুবখালি খাল, কালুনগর খাল পরিষ্কার করেছি। আমরা প্রায় ১০ লাখ টন বর্জ্য ও পলিমাটি অপসারণ করেছি। পুরো কাজ করেছি আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে। এত অল্প সময়ে এত ব্যাপক কাজ এর আগে করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

এটা ঠিক যে খাল-কালভার্ট পরিষ্কারের ফলে নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু জলজট থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই শোষণক্ষম ভূমির প্রয়োজন। কিন্তু যেভাবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ হয়েছে, তাতে শোষণক্ষম ভূমি পাওয়া অসম্ভব। ওয়াসা যখন ওয়াটার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান করল, তখন বৃষ্টির পরিমাণ ধরেছে আমাদের যে পরিমাণ বৃষ্টি হয় তার এক-তৃতীয়াংশ। তারপর শোষণভূমির বিষয়টি বিবেচনা করে সক্ষমতা আরো কিছুটা বাড়াল। তার পরও দেখা গেছে, বৃষ্টির পর পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজগুলো পর্যাপ্ত নয়। আমাদের মহাপরিকল্পনা এমনভাবে নেয়া হবে যে, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতেও যাতে জলজট না হয়। মহাপরিকল্পনায় আমরা সে বিষয়টি নিয়েও কাজ করব। ৩০ বছর পর যেন ঢাকাবাসীকে জলজটে ভুগতে না হয়, সেভাবেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

করোনাকালেও আপনারা সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণ করেছেন, এ সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমার প্রথম বছরই করোনাকালের বছর, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও করপোরেশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণ করেছি। কয়েকটি নতুন খাত থেকে আয় করেছি। আরো কয়েকটি নতুন খাত নিয়ে কথা চলছে। অনেক খাত ছিল, যেখান থেকে কখনো আয় আসেনি, কিন্তু আমরা সেসব পরিত্যক্ত খাত থেকেও আয় করেছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্লাইওভার ও মোবাইল ফোন টাওয়ার খাত। তাছাড়া আমি এ যাবতকাল যা কাজ করেছি, যতটুকু অবকাঠামো উন্নয়ন করেছি, যতটুকু পরিকল্পনা নিয়েছি; সব করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে। গত ১০ থেকে ১৫ বছর আগের বকেয়াও আমরা পরিশোধ করেছি। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি আমাদের কাছে যে বকেয়া অর্থ পেত, সেগুলোর পরিমাণ কমে আসছে।

ব্যবসা সহজীকরণে কী ভূমিকা নিয়েছেন?

ব্যবসা সহজীকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। পুরনো ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার কাজটি সহজ করা হয়েছে। পুরো সেবাটিই আমরা অনলাইনভিত্তিক করে ফেলায় বিষয়গুলো অনেক সহজ হয়েছে। ফলে দেখা গেছে, শুধু ট্রেড লাইসেন্স বাবদই আমাদের রাজস্ব অনেক বেড়ে গেছে।

ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়ে কী ভাবছেন?

আমাদের মহাপরিকল্পনায় ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও আছে। এরই মধ্যে ঢাকা ফটক, লালকুঠি, রূপলাল হাউজসহ আরো কয়েকটিতে কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যাবে।

(সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুমন আফসার ও আল ফাতাহ মামুন)

বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ৯ নভেম্বর, ২০২১ | নিউজ লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker