BusinessTech

ভুয়া নামে প্রশিক্ষণার্থী, মিথ্যা তথ্যে অর্থ উত্তোলন

লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের কাজ পাওয়া কনসোর্টিয়ামগুলো থেকে প্রশিক্ষণ নেয়া শীর্ষ আট উপার্জনকারীকে পুরস্কৃত করা হয় গত বছরের ১৯ অক্টোবর। ১০ হাজার ৯০০ ডলার আয় নিয়ে শীর্ষে ছিলেন ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ের প্রশিক্ষণার্থী চট্টগ্রামের রায়হান। আরেক পুরস্কারপ্রাপ্ত গ্রাফিক ডিজাইনে প্রশিক্ষণ নেয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিরাত রাজ্জাকীর আয় দেখানো হয় ২ হাজার ডলার।

পুরস্কৃতদের এ কৃতিত্বকে সে সময় দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। যদিও অনুসন্ধানে জানা যায়, রায়হানের আয় আসলে ২ হাজার ৫০০ টাকা। আর সিরাত রাজ্জাকীর আয় মাত্র ১ হাজার ৪০০ টাকা। প্রকল্প নির্ধারিত বেঞ্চমার্কেরও অনেক নিচে এ আয়। উপার্জন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের পাশাপাশি মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা তৈরিতেও। কাজ শেষ না করেই ভুয়া ভাউচার ও তথ্য দিয়ে বিল তুলে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

২০২১ সালের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এজন্য গুরুত্ব দেয়া হয়েছে আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের ওপর। এর অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ১৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পটি নেয়া হয়। বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ বেকার জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে চারটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে ১২টি আইটি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর কার্যাদেশ দেয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। র্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বাধীন অন্য দুই প্রতিষ্ঠান আরডিএফ পেমেন্ট সলিউশন ও হোস্টিং হেল্প। ডিজিকন টেকনোলজিসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের অন্য দুই প্রতিষ্ঠান বেজ লিমিটেড ও এমসিসি লিমিটেড। বিডিজবস কনসোর্টিয়ামে রয়েছে ই-জেনারেশন লিমিটেড ও বিএমআইটি সলিউশন্স। সিবিএসজির কনসোর্টিয়ামের অন্য প্রতিষ্ঠানটি ডিভাইন আইটি লিমিটেড।

কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে প্রাথমিকভাবে ৪০ শতাংশ অর্থ ছাড় করার কথা। বাকি ৬০ শতাংশ অর্থ দেয়ার কথা প্রকল্পের সব শর্ত পূূরণ ও যাচাই-বাছাইসাপেক্ষে। পুরো অর্থছাড়ের শর্ত হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রশিক্ষণার্থীদের শতভাগ চাকরি প্রদান বা অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে ন্যূনতম ২৫ ডলার আয় অথবা অনলাইনে ন্যূনতম তিনটি আউটসোর্সিং কাজ (রিভিউ) সম্পন্নের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়।

চার কনসোর্টিয়ামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থের কাজ পেয়েছে র্যাডিসনের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম। ১৫ কোটি ১১ লাখ টাকার কাজের মধ্যে অর্থছাড় হয়নি ৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার। ডিজিকন কনসোর্টিয়াম কাজ পেয়েছে ১৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। এছাড়া বিডিজবস কনসোর্টিয়াম ১৪ কোটি ৪০ লাখ ও সিবিএসজি কনসোর্টিয়াম ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার কাজ পেয়েছে।

চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের উপার্জনক্ষম করতে প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরও মেন্টরিং সেন্টার চালু রাখার নির্দেশনা দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে তত্কালীন প্রকল্প পরিচালক প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিন মাস মেন্টরিং সেন্টার চালু রাখতে বলেন। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী প্রশিক্ষণ পরিচালনাকারী সব প্রতিষ্ঠান ৪০ শতাংশ অর্থ ছাড় করিয়ে নিলেও বাকি ৬০ শতাংশের বিষয়ে খোঁজ নিতেই বেরিয়ে আসে প্রকল্পটিতে অনিয়মের নানা তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এ প্রকল্পে র্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম ভুয়া তথ্য প্রদান ও প্রতারণার মাধ্যমে এরই মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি অর্থ তুলে নিয়েছে। এ কনসোর্টিয়ামের অন্য দুই প্রতিষ্ঠান আরডিএফ পেমেন্ট সলিউশন ও হোস্টিং হেল্প।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি তদারকিতে রয়েছে আধুনিক মনিটরিং সফটওয়্যার। চুক্তিবদ্ধ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সব হালনাগাদ তথ্য নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রকল্পের হালনাগাদ চিত্র পাওয়া যায়। তবে র্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস কনসোর্টিয়াম প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ শতাংশ অর্থ উত্তোলনের সময় যে তথ্য সরবরাহ করে, তার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ৬০ শতাংশ অর্থ উত্তোলনের জন্য দেয়া তথ্যের বড় ধরনের গরমিল পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির দেয়া ভুল তথ্য সংশোধনের সুযোগ দিতে প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. নবীর উদ্দীন র্যাডিসন ডিজিটালের সিইও দেলোয়ার হোসেন ফারুককে তা ফেরত দেন। আগের তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে নতুন করে আবারো বিল জমা দিতে বলেন তিনি। তবে সংশোধিত তথ্যেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। সেটি আমলে না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আরো কিছু অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

জনবল সংকটের কারণে প্রকল্পের দুজন পরামর্শককে দিয়েই বিলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়। পরামর্শকদের একজন সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব। অন্যজন কোবরা সফটওয়্যারের স্রষ্টা বা উন্নয়নকারী। তাদের যাচাই-বাছাইকালেও ধরা পড়ে অনিয়মের চিত্র। তাতে দেখা যায়, প্রকল্পে জমাকৃত বিলে কোনো জেলায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যাচ হয়তো প্রশিক্ষণ নিয়েছে গ্রাফিক ডিজাইনে, কিন্তু জমা দেয়া বিলে তাদের প্রশিক্ষণের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে ডিজিটাল মার্কেটিং। এটি নিয়ে আপত্তি জানালেও উপপ্রকল্প পরিচালক সংশ্লিষ্ট পরামর্শককে এমন সব অনিয়মের বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। একই ধরনের অনিয়ম দেখা যায় অন্যান্য কনসোর্টিয়ামেও।

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, র্যাডিসন কনসোর্টিয়াম প্রতি ব্যাচে ২০ জন করে ১৭৬টি ব্যাচে মোট ৩ হাজার ৫২০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়। এর মধ্যে প্রকল্পের সব শর্ত পূরণ করতে পেরেছে ৭১ জন। অর্থাৎ এ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।

কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী, প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকার সঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ আগ্রহীকে বিকল্প হিসেবে রাখা যাবে। এ হিসাবে র্যাডিসনের তালিকায় থাকার কথা সর্বোচ্চ ৪ হাজার ২২৪ জন। অথচ প্রতিষ্ঠানটি ছয় হাজার প্রশিক্ষণার্থীর নাম জমা দিয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাজিরা শিটের মূল কপি প্রকল্প অফিসে জমা দেয়ার কথা থাকলেও র্যাডিসন কনসোর্টিয়াম দিয়েছে ফটোকপি। সরবরাহকৃত তথ্যে একই মার্কেট প্লেস আইডির বিপরীতে একাধিক প্রশিক্ষণার্থীর নাম ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা কোনো প্রশিক্ষণার্থীর নামের একাংশ মিললেও বাকি অংশের মিল নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত মার্কেট প্লেসের আইডিও প্রশিক্ষণার্থীর নয় বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ লটের ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে প্রশিক্ষণের সার্বিক বিষয়ে জানতে দৈবচয়ন ভিত্তিতে বণিক বার্তার পক্ষ থেকে শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তালিকার তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, একই নাম ও সেলফোন নম্বর একাধিকবার ব্যবহার করে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। তালিকায় গ্রাফিক ডিজাইনের মাহফুজ উল্লাহ খান নামে এক প্রশিক্ষণার্থীর নাম ও সেলফোন নম্বর ব্যবহূত হয়েছে তিনবার। নাম ও সেলফোন নম্বর এক থাকলেও এগুলোর বিপরীতে রেজিস্ট্রেশন নম্বর রয়েছে তিনটি (৫৪৭৪২, ১২৬৪৫০ ও ১২৬২৪৭)। এর মধ্যে ৫৪৭৪২ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে ব্যাচ নম্বর লেখা হয়েছে ৪৭৩। বাকি দুটির ব্যাচ নম্বর ৪৭৭।

গ্রাফিক ডিজাইনের আরেক প্রশিক্ষণার্থী শাহ হোসাইন আহমেদের নাম ও সেলফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে দুবার। এজন্য দুটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়া হয়েছে তাকে (১৮০৯৫ ও ১৩৩১১২)। ব্যাচও আলাদা (২৮২ ও ২৮৮তম)। দুই জায়গায় জন্মতারিখ ও শিক্ষাগত যোগ্যতায়ও রয়েছে ভিন্নতা। মনজুরুল ইসলাম (৪০৩৫২ ও ১৩৩১১৮) ও কুলসুমা বেগমের (৬৫৮২০ ও ১৩৩১৪৭) ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। তালিকায় এ ধরনের শতাধিক নাম পাওয়া গেছে, যাদের নাম ও সেলফোন নম্বর একাধিকবার ব্যবহার করা হয়েছ২৭১তম ব্যাচে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন প্রদীপ দেবনাথ (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৪৯৫৩৩)। তবে ব্যক্তিগত কারণে তিনি কোর্সে অংশ নেননি। অথচ তাকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০১তম ব্যাচে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে অংশ নিয়ে মাঝপথে ছেড়ে দেন সৈয়দ মুফলে সালেকিন (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৬৬৭০)। কোর্স সম্পন্ন না করেও তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ২৯১তম ব্যাচে ওয়েব ডিজাইন কোর্সে অংশ নেন পিন্টু পাল (৩৬৩৪৯)। মাত্র দুটি ক্লাস করে ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কোর্স বাদ দিলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছে তার নামও। বিভিন্ন ব্যাচে ওয়েব ডিজাইন কোর্স করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে কোনো ধরনের উপার্জন করতে পারেননি মিজানুর রহমান (৮১১৫), রাজিয়া সুলতানা (৪৫৭৮৯), জান্নাতুল ফেরদৌস আইরিন (৪১৬৮৪), আতিকুর রহমান (২১৭৪২), জাওয়াদ তাহমিদ (২০১৫৩) ও আব্দুল মতিন (১৫২২৮)।

রুবেল মিয়া নামে একজনকে পাওয়া গেছে, যিনি কোর্সটি করে মাসে প্রায় ৩০০ ডলার আয় করছেন বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করছেন তিনি। প্রশিক্ষণ নেয়ার আগে তার মাসিক আয় ছিল ১০-১৫ ডলারের মধ্যে।

প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে সরকারের বরাদ্দ দেয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও (যেমন দুপুরের খাবার, কলম, ব্যাগ, লেখার প্যাড, প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদি ইত্যাদি) যথাযথভাবে দেয়নি কনসোর্টিয়ামগুলো। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তির দীর্ঘদিন পার হলেও এখনো সনদ পাননি কোনো প্রশিক্ষণার্থী। কোর্স শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব অনিয়মের পরও অর্থছাড়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন উপপ্রকল্প পরিচালক। বিল যাচাই-বাছাই ছাড়াই র্যাডিসন কনসোর্টিয়ামের অনকূলে কয়েক কিস্তিতে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপপ্রকল্প পরিচালকের ইস্যু করা ফাইলে প্রকল্প পরিচালক হয়ে সচিব পর্যন্ত অনুমোদনও নেয়া হয়েছে।

তবে তার জানামতে এমনটি হয়নি বলে দাবি করেন র্যাডিসন ডিজিটালের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ফারুক।  তিনি বলেন, তিন-চারবার যাচাই করে বিল দেয়া হয়েছে। এজন্য দীর্ঘ সময়ও নিয়েছে প্রকল্প কার্যালয়। পরামর্শকরা অনেককে দিয়ে এসব তথ্য যাচাই করেছে। ফলে বিল প্রদানের ক্ষেত্রে সে রকম কিছু হয়নি। যেটা হয়েছে তা হলো, প্রকল্প কর্মকর্তাদের অসতর্কতায় কোনো কোনো অ্যাকাউন্ট ব্লকড হয়েছে। বিষয়টি আমরা জানিয়েছি। অ্যাকাউন্টগুলোর তথ্য নিশ্চিত না হয়ে বিল দেয়নি প্রকল্প কার্যালয়।

একই ব্যক্তির নামে একাধিক নিবন্ধন থাকার সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সফটওয়্যারের মাধ্যমে এটি তদারক করা হয়েছে। আলাদা নিবন্ধন নম্বরের প্রশিক্ষণার্থীও আলাদা।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার দায়িত্ব নেয়ার পর বেসিস সভাপতির শূন্য পদে আসেন সৈয়দ আলমাস কবীর। আর আলমাস কবীরের শূন্য পদে পরিচালক হিসেবে মনোনীত হন দেলোয়ার হোসেন ফারুক। গত ৬ মে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে প্যাকেজ পিএস-১০-এর ৯ নম্বর লটে র্যাডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে ‘আনন্দ কম্পিউটার্স’ সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় ডাটা সফট, ই-জেনারেশনের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠান না থাকলেও স্থান করে নিয়েছে নামসর্বস্ব বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে কোনো প্রকল্পের কোনো বিষয়েই হস্তক্ষেপ করিনি। আমি মনে করি, প্রত্যেককেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসতে হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে সবকিছু নিখুঁতভাবে হয়েছে, তা বলতে পারছি না। যেহেতু প্রশিক্ষণের কার্যক্রম আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, আমি শুধু যাচাই-বাছাই করে বিল প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলাম। তবে প্রথম পর্যায়ে শর্তগুলোর ক্ষেত্রেই দুর্বলতা ছিল। এ শর্ত পূরণ করে বিল দেয়া হয় বলে আমাকে জানানো হয়েছে। ন্যূনতম ২৫ ডলার আয়ের শর্ত প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে পরিবর্তন করে ১০০ ডলার করা হয়েছে। এটি প্রকল্পের বাইরেও পরীক্ষা করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরীক্ষা নেয়া হবে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নকালে এরই মধ্যে তিনজন প্রকল্প পরিচালককে বদলি করা হয়েছে। চতুর্থ প্রকল্প পরিচালক হিসেবে তিন মাস আগে যোগ দিয়েছেন প্রকল্পটির বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তা। তবে প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হলেও এখনো উপপ্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন। প্রকল্পের ফাইল হস্তান্তর না করায় উপপ্রকল্প পরিচালককে ইউ-নোট (আন-অফিশিয়াল নোট) পর্যন্ত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন প্রকল্পের দ্বিতীয় প্রকল্প পরিচালক।

অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উপপ্রকল্প পরিচালক মো. নবীর উদ্দীন বলেন, আমাদের যেসব শর্ত দেয়া ছিল, সেগুলো অনুসরণ করে বিল দেয়া হয়েছে। আমার একক সিদ্ধান্তে বিল দেয়া হয়নি। বিল প্রদান প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সবাই যাচাই-বাছাই করে বিল প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদ ও বাস্তবায়ন ব্যয় বাড়ানোর অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০১৬ সালে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে নেয়া প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় ৩১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ধরে দ্বিতীয় সংশোধনীর অনুমোদন দেয় একনেক। সংশোধনীতে প্রকল্পের সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৫ দিনব্যাপী ২০ হাজার নারীকে মৌলিক প্রযুক্তি বিষয়ে এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ২ হাজার ৯০০ জনকে আউটসোর্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৮৪০ জনকে বিশেষায়িত আউটসোর্সিং কাজে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ; বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ৫৩ হাজারজনকে প্রফেশনাল আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ এবং আউটসোর্সিং বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১ হাজার ৯২০ জন গণমাধ্যমকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা রয়েছে।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ২৪ জুলাই, ২০১৮ | নিউজ লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker