ব্যাংক-বীমার সংখ্যা বেড়েছে, বেদনাও বেড়েছে

বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ে সরকারের আনুকূল্যে বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। যদিও এর মধ্যে ব্যবসায় সফল হয়েছে কমসংখ্যকই। লাইসেন্সভিত্তিক এসব খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকের শেষ পর্বে থাকছে- ব্যাংক ও বীমা।
নতুন নতুন পণ্য ও সেবা চালু, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা ও রেমিট্যান্স আনতে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার প্রচলন—এমন সব কারণ দেখিয়ে গত এক দশকে ১২টি ব্যাংকের লাইসেন্স দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো তিনটি ব্যাংকের লাইসেন্স আবেদন। তবে ব্যবসায় সফলতা না পেলেও দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়াতে ভূমিকা রেখে চলেছে নতুন এসব ব্যাংক। একই অবস্থা নতুন বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোরও। নতুন ১৫টি বীমা প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই নিজ খাতে ভালো করতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, প্রারম্ভিক মূলধনও খেয়ে ফেলেছে অনেক বীমা প্রতিষ্ঠান। ব্যবসা না থাকায় একের পর এক শাখা বন্ধ করতে হয়েছে তাদের।
বর্তমানে দেশে তফসিলভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯। এর মধ্যে গত এক দশকেই অনুমোদন পেয়েছে ১২টি। ২০১২ সালেই দেয়া হয় নয়টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন। এর মধ্যে তিনটি প্রবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো এনআরবি, এনআরবি কমার্শিয়াল ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। বাকি ছয়টি ব্যাংক হলো ফারমার্স, মধুমতি, মেঘনা, মিডল্যান্ড, ইউনিয়ন ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। এরপর ২০১৬ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সীমান্ত ব্যাংক। ২০১৮ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে। সম্প্রতি তফসিলভুক্ত ৫৯তম ব্যাংক হিসেবে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ অনুমোদন পেয়েছে। নতুন করে আরো তিনটি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক তিনটি হলো বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, পিপলস ব্যাংক লিমিটেড ও সিটিজেন ব্যাংক লিমিটেড।
২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া নতুন ব্যাংকগুলোকে ১৬টি শর্তে লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু যাত্রার ছয় বছরেও শর্ত পূরণের ধারেকাছে যেতে পারেনি এসব প্রতিষ্ঠান। কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত থাকলেও এখনো তা থেকে অনেক দূরে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের শর্ত থাকলেও এখন পর্যন্ত ২ শতাংশ ঋণও কৃষি খাতে বিতরণ করেনি নতুন ব্যাংকগুলো। নিট মুনাফার অন্তত ১০ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের শর্তও ব্যর্থ হয়েছে তারা। এছাড়া শহরে একটি শাখার বিপরীতে গ্রামে একটি শাখা খোলার শর্তও ছিল এ ব্যাংকগুলোর জন্য। এটিও পূরণ হয়নি।
বিদেশী বড় কোনো ব্যাংকের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং শুরু করতে পারেনি নতুন এসব ব্যাংক।
ক্ষীণশ্বাস, তবু বাড়ছে রেডিও-টেলিভিশন
বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯ | নিউজ লিংক



