Tech

তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং নীতিমালা

ডিজিটাল ব্রডকাস্টিংসহ সম্প্রচারসম্পর্কিত প্রযুক্তি প্রচলনে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এ নীতিমালার খসড়া তৈরি করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

বিশ্বের সব দেশের টেলিভিশন সম্প্রচার ব্যবস্থাকে ২০১৫ সালের মধ্যে ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থায় রূপান্তরের বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় খাতসংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং সম্পর্কিত নীতিমালার খসড়া তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিটিআরসিকে। খসড়া নীতিমালা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠাবে কমিশন। এছাড়া সম্প্রচার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোয় এ বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের মধ্যে প্রচলিত অ্যানালগ পদ্ধতির সম্প্রচার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থা চালু করতে সদস্য দেশগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে আইটিইউ। এ সময়ের মধ্যে যেসব দেশ এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে না, সেসব দেশের দর্শকদের ডিজিটাল টু অ্যানালগ কনভার্টার কিনে টেলিভিশন দেখতে হবে। এতে ছবি ও শব্দের মান তুলনামূলক খারাপ হবে।

এরই মধ্যে বিশ্বের ২৯টির বেশি দেশে আইটিইউর নির্দেশনা অনুসরণ করে অ্যানালগ সম্প্রচার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এছাড়া আরো ১২টি দেশ এ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব দেশকেই এ সম্প্রচার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ফলে কয়েক বছরের মধ্যে অ্যানালগ সম্প্রচার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ ধরনের সম্প্রচার ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশও পরবর্তী সময়ে সহজলভ্য থাকবে না।

আইটিইউ নির্দেশনার আলোকে দেশের সব স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে টেরেস্ট্রিয়াল সম্প্রচার সুবিধা দিতে এর আগে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব দেয় বিটিআরসি। এটি বাস্তবায়ন হলে সম্প্রচারের মানোন্নয়ের পাশাপাশি সাশ্রয় হবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। বর্তমানে দেশে অনুমোদন পাওয়া স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের সংখ্যা ৪১। স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলো সম্প্রচারের জন্য বিদেশী স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। প্রতিটি টিভি চ্যানেল স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ ডলার ব্যয় করে।

জানা গেছে, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থা চালু হলে ডিজিটাল সিগন্যাল গ্রহণের জন্য সেটটপ বক্স ব্যবহার করতে হবে গ্রাহকদের। সাধারণত প্রতিটি সেটটপ বক্সের দাম ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। তবে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চাইলে দর্শকদের বিনামূল্যে বা তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে দিতে পারে এটি। এজন্য কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে তহবিল গঠন করে এ ব্যবস্থা চালু করতে পারে তারা।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থা চালু হলে আরো ভালো মানের ছবি ও শব্দ পাবে দর্শক। এটি চালুর বিষয়ে আইটিইউর নির্দেশনা রয়েছে। এ ব্যবস্থা চালু করতে যে ব্যয় হবে, তা কনসোর্টিয়াম গঠনের মাধ্যমে সহজেই বহন করতে পারবে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো সুপারিশেও এ ধরনের সুযোগ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। আর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে তরঙ্গ বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সম্প্রচার যন্ত্রাংশ আমদানির জন্য বিটিআরসির অনুমতি নিতে হয়। এদিকে বাংলাদেশে অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থা চালুর রোডম্যাপসহ এটি কার্যকর করার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাতে হবে আইটিইউকে। বিটিআরসি এ রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে।

দেশের স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলোকে টিরেস্ট্রিয়াল সুবিধা দেয়ার বিষয়ে বিটিআরসির প্রস্তাবনার বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট স্যাটেলাইট চ্যানেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মোসাদ্দেক আলী জানান, এটি বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। দেশের অনেক এলাকায়ই ক্যাবল টিভির নেটওয়ার্ক নেই। ফলে এসব এলাকার দর্শক বর্তমানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার হওয়া টিভি চ্যানেলগুলো দেখতে পারছে না। টিরেস্ট্রিয়াল সুবিধা দেয়া হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দর্শকদের কাছে নিজেদের অনুষ্ঠান পৌঁছে দিতে দিতে পারবে দেশী চ্যানেলগুলো।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ৩০ মে, ২০১৪ | নিউজ লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker