Tech

কল ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ আয় বেড়েছে সব অপারেটরের

সেলফোন অপারেটরদের অন-নেট (একই অপারেটরের নেটওয়ার্ক) ও অফ-নেট (অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক) ভয়েস কলে অভিন্ন ট্যারিফ হার চালু হয়েছে গত ১৪ আগস্ট। অন-নেট ও অফ-নেটের বিভেদ দূর হলেও নতুন এ সীমায় অপারেটরদের ন্যূনতম ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। অভিন্ন এ ট্যারিফ হারে আয় বেড়েছে সব সেলফোন অপারেটরের।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা হিসাবে অন-নেট কল থেকে মাসে গ্রামীণফোনের গড় আয় ২৮০ কোটি ১৫ লাখ টাকা। একই কলরেট ধরে অন-নেট থেকে রবির আয় ১১২ কোটি ৩৮ লাখ, বাংলালিংকের ৭১ কোটি ৩৬ লাখ ও টেলিটকের ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। অন্যদিকে সর্বনিম্ন ৬০ পয়সা ধরে অফ-নেট কল থেকে গ্রামীণফোনের মাসিক আয় ৭৫ কোটি ৩৫ লাখ, রবির ১০৩ কোটি ৯৯ লাখ, বাংলালিংকের ৭৮ কোটি ৪০ লাখ ও টেলিটকের আয় ২০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ অন-নেট ও অফ-নেট মিলিয়ে মাসে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের গড় আয় যথাক্রমে ৩৫৫ কোটি ৫০ লাখ, ২১৫ কোটি ৭১ লাখ ও ১৪৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

নতুন ট্যারিফ সীমা নির্ধারণের যুক্তি হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ করার কথা জানিয়েছিল। মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা চালুর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এটি প্রয়োজন উল্লেখ করে বলেছিল, এতে ছোট-বড় সব অপারেটর সমান সুবিধা পাবে। এখন সেবার মান দিয়ে বিদ্যমান গ্রাহক ধরে রাখা কিংবা নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করতে হবে তাদের।

জানা গেছে, নতুন নির্দেশনা জারির পর কলরেট বাড়িয়েছে প্রায় সব অপারেটর। এতে অন-নেট ও অফ-নেটের বিভেদ না থাকলেও সামগ্রিকভাবে কথা বলার ব্যয় বেড়েছে। অভিন্ন ট্যারিফ হার নির্ধারণের ফলে বিদ্যমান বাজারের ওপর এর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা যাচাইয়ে উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাও। এ বিষয়ে কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, যেহেতু মাত্র এক মাস আগে নতুন কল ট্যারিফ চালু হয়েছে, তাই আমরা মনে করি এ ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে কোনো মন্তব্য করার উপযুক্ত সময় এখনো আসেনি। বাংলালিংকের আয় ও গ্রাহকপ্রতি আয়ের (এআরপিইউ) ওপর নতুন কলরেটের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। তবে এর ফলে আমাদের নেটওয়ার্কে অফ-নেট কলের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া অন-নেট ও অফ-নেট কলরেটের পার্থক্য না থাকায় গ্রাহকরা এখন সিম বদল না করেই যেকোনো অপারেটরে কল করতে পারছেন। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও অফ-নেট কল করার খরচ দুই-ই কমেছে। আগামী মাসে এমএনপি সেবা চালু হলে গ্রাহকরা এ কলরেটের সার্বিক সুবিধা উপলব্ধি করতে পারবেন বলে আশা করছি।

গ্রাহক সংখ্যা ও আয়ের ভিত্তিতে সেলফোন সেবা খাতের নিয়ন্ত্রণ মূলত তিন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবির নিয়ন্ত্রণে। কমিশনের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে দেশে সেলফোন গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৪২ লাখ। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ৭ কোটি ৭ লাখ, রবির ৪ কোটি ৬১ লাখ ও বাংলালিংকের ৩ কোটি ৩৪ লাখ। আর রাষ্ট্রায়ত্ত সেলফোন অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৩৮ লাখ ৭৩ হাজার।

গ্রাহক সংখ্যার ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের মার্কেট শেয়ার ৪৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, রবির ২৯ দশমিক ৬৩, বাংলালিংকের ২২ দশমিক শূন্য ৫ ও টেলিটকের ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের পর গ্রাহক সংখ্যা ও মার্কেট শেয়ার বেড়েছে রবির। আর আয়ের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনের মার্কেট শেয়ার ৫১ দশমিক ৩৩, রবির ২৫ দশমিক ৪৭, বাংলালিংকের ২০ দশমিক ২২ ও টেলিটকের ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, কলচার্জ সমন্বয়ের প্রভাব পরিমাপ করার সময় এখনো আসেনি, তবে আমরা গ্রাহকদের ফোন ব্যবহার কিছুটা হ্রাস পেতে দেখেছি। যদিও আমরা ইউনিফর্ম ট্যারিফ চালুর পক্ষে ছিলাম না, কারণ এর ফলে অন-নেট রেট বেড়েছে। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি, রেগুলেটর বাজার কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা এখন গ্রাহকদের এ পরিবর্তনের সম্পূর্ণ সুবিধা দিতে বিভিন্ন প্যাকেজে আমাদের ট্যারিফগুলো পুনর্মূল্যায়ন করছি। আমাদের মিনিট প্যাকগুলো ব্যবহার করে গ্রাহকরা ৪৫-৪৭ পয়সা ট্যারিফ উপভোগ করছেন।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | নিউজ লিংক

 

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker