তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট পদ: ৩৩ বছরের পুরনো বিধিতেই জনবল নিয়োগ

জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। জনপ্রশাসনের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও গতিশীল করতেও নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনপ্রশাসন গড়তে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো এ-সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগ হচ্ছে ৩৩ বছরের পুরনো নিয়োগবিধি অনুযায়ী। এরই মধ্যে প্রযুক্তি ও প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হওয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যথাযথ দক্ষতাসম্পন্ন জনবলের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগে ১৯৮৫ সালে দ্য কম্পিউটার পারসোনেল (গভর্নমেন্ট অ্যান্ড লোকাল অথরিটিজ) রিক্রুটমেন্ট রুলস জারি করা হয়। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এ নীতিমালা জারি করে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়)। নীতিমালায় পরিচালক থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার পর্যন্ত মোট ২০ ধাপ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। পরে ১৯৯৫ ও ১৯৯৯ সালে দুই দফায় কিছু সংশোধনী আনা হয় এ নীতিমালায়।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ প্রসঙ্গে বলেন, সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত জনবলের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই, পরিকল্পনাও নেই। কেউ বলছেন, ক্যাডার সার্ভিস করা প্রয়োজন, কেউ বলছেন, আইসিটি বিভাগের উদ্যোগ নিয়ে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোয় জনবল সরবরাহ করা যেতে পারে। সুনির্দিষ্ট কিছু এখন পর্যন্ত নেই।
তিনি বলেন, একসময় টেলিকম ক্যাডার ছিল। আইসিটি ক্যাডারেরও চাহিদা রয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জনবল প্রয়োজন। তবে এ ধরনের জনবল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা সব মন্ত্রণালয়ের রয়েছে কিনা, তা ভেবে দেখতে হবে। আগামী দিনে তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে। সমন্বিতভাবে এ উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু ডিজিটাইজেশন করলেই হবে না, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা দিতে মানুষ প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও প্রোগ্রামার পদে। কোনো কোনো মন্ত্রণালয় চলছে একজন সহকারী প্রোগ্রামার দিয়েই। আবার কোথাও রয়েছে একাধিক প্রোগ্রামার ও সিস্টেম অ্যানালিস্ট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট, সিস্টেম অ্যানালিস্ট, প্রোগ্রামার, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার, মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী নিযুক্ত রয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন কম্পিউটার অপারেটররা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রোগ্রামারের কাজ মূলত সফটওয়্যার তৈরি বা উন্নয়ন। সফটওয়্যার তৈরি ও উন্নয়নের কার্যক্রম কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগেই নেই। অথচ সরকারি দপ্তরগুলোয় তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট জনবল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে প্রোগ্রামার। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তাকে বিশ্বব্যাপী গুরুত্ব দেয়া হলেও সরকারি নিয়োগে সেটি উপেক্ষিত থাকছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটর গ্রুপ (বিডিনগ) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সুমন আহমেদ সাবির বলেন, পদ অনুযায়ী হয়তো তাদের দায়িত্ব সীমিত নয়। প্রোগ্রামার হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সংগ্রহে তাদের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে কাজটি করে থাকেন কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ম্যানেজাররা। তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট জনবল নিয়োগ যুগোপযোগী করার পাশাপাশি দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ১০ জুলাই, ২০১৮ | নিউজ লিংক



