Interview

করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে নিতে হবে

দেশের শীর্ষ সেলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রথম বাংলাদেশী সিইও ইয়াসির আজমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে গ্রামীণফোনের সিএমও এবং ডেপুটি সিইও ও সিএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া টেলিনর গ্রুপের ডিস্ট্রিবিউশন ও ই-বিজনেস বিভাগের প্রধান এবং টেলিনরের হয়ে বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন। করোনা সংক্রমণকালে দেশের টেলিযোগাযোগ খাত ও গ্রামীণফোনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুমন আফসার

কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী নানা চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কিছু ক্ষেত্রে হয়তো এর ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে সার্বিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সবাই। দেশের শীর্ষ সেলফোন অপারেটরের সিইও হিসেবে এ চ্যালেঞ্জগুলোকে কীভাবে দেখছেন?

বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি একই রকম। কোনো সরকার, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি—আমরা কেউই এ পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিলাম না। সময়টার শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম সাময়িকভাবে হোম অফিস করে কাজ চালিয়ে নেব। কিছুদিন পর এ থেকে বেরিয়ে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব। কিন্তু দেখা গেল এটা অনেক সময় নিচ্ছে। আমরা জানি না কখন এ পরিস্থিতি থেকে একেবারে বেরিয়ে আসতে পারব। যেহেতু এটা প্রলম্বিত হচ্ছে, তাই আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রত্যাশা ছাড়াই নিজেদের এ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। সবাইকে নিয়ে কীভাবে সামষ্টিকভাবে ভালো থাকা যায়, তার উপায় নিয়ে ভাবতে হবে।

আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান ভালো করছে। বিপণন ও জনবলের যে শক্তি রয়েছে, তা দিয়েই এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। তবে ছোট বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো টিকতে পারছে না। এসএমইগুলো এভাবে ঝরে পড়লে বড় প্রতিষ্ঠান টিকে গেলেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হবে না। তাই আমি মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে যেন সবাই একসঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারি। এক্ষেত্রে টেকনোলজি ও কানেক্টিভিটি বড় ভূমিকা রাখছে। আমাদের সংশ্লিষ্টতা এক্ষেত্রে অনেক বেড়ে গেছে। আমরা শুরু থেকে বুঝতে পেরেছি, যদি এখন নিজেদের নিরাপদে রেখে সেবা দেয়ার কথা চিন্তা করি তাহলে পুরো দেশ একটি কঠিন সময়ের মধ্যে যাবে, যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নাও হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো দেশে ফিক্সড কানেক্টিভিটি বলতে কিছু নেই। পুরো দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকে আছে মূলত মোবাইল ও ব্রডব্যান্ডের ওপর। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ফিক্সড আইপি বা ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের এখন তৈরি হতে হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই একটা পরিস্থিতির জন্য। কীভাবে আরো সুলভে আরো ভালো নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের আনাচকানাচে নিয়ে যেতে পারি, সে চেষ্টা করতে হবে।

এখন কিন্তু আর সে পরিস্থিতি নেই যে মানুষ শহরে আসবে, আবার কর্মকাণ্ড শহরকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। অনেক মানুষ গ্রামে ফিরে গেছে। এতে মানবসম্পদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই এখন স্বল্প জনবলে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতা নিশ্চিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এটি যে শুধু অগ্রসর শিল্প খাতগুলোতে প্রয়োজন তা নয়; বরং কৃষি, মত্স্য, পোলট্রির মতো খাতগুলোয়ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে আমাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে কাজ করছি আমরা। এরই মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশনে সেলফোন অপারেটরদের সম্পৃক্ততা নিয়ে কাজ চলছে। এর বাইরে অন্যান্য খাতেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিয়ে নতুন স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠার কথা বলা হচ্ছে। সেলফোন অপারেটর হিসেবে এ পরিস্থিতির জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কি?

একটা উদাহরণ দিয়ে বলি। শিক্ষার্থীদের অনেকেই গ্রামে ফিরে গেছে। বাড়িতে বসে তাদের অনলাইন ক্লাস করতে হচ্ছে। ফোরজি শহর কিংবা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে হবে, এমন ভাবার সুযোগ এখন কিন্তু নেই। আমাদের এখন একটু উল্টোভাবে চিন্তা করতে হবে। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে সেবাটি পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে ভাবতে হবে। এ মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কত দ্রুত বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-গঞ্জে ফোরজি নেটওয়ার্ক আমরা নিয়ে যেতে পারি। আমরা মনে করি, এতে বেশি সময় লাগবে না। গ্রামীণফোন সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে।

একই সঙ্গে ফাইভজির জন্য ইকোসিস্টেমের রেডিনেস প্রয়োজন। ফাইভজিতে স্পেকট্রাম ছাড়াও প্রডাক্ট, সার্ভিস, ডিভাইস, ব্যবসায় কৌশল, নীতিমালার কিছু পরিবর্তনও সম্পর্কিত। এছাড়া এখানে টাওয়ার অনেক বেশি প্রয়োজন হবে। সেজন্য টাওয়ার কোম্পানির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফাইভজির জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। আমাদের মাননীয় আইসিটি উপদেষ্টাও জানিয়েছেন সরকারের বর্তমান মেয়াদেই ফাইভজি সেবা চালু হবে। আমার মনে হয়, ফাইভজির জন্য প্রস্তুত হতে আমাদের হাতে এখনো যথেষ্ট সময় রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সুলভে ডাটা সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ডাটা নেটওয়ার্ক তৈরির বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সেবার মানোন্নয়নে নিশ্চয়ই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কৌশল নির্ধারণ করেছেন। এখন পর্যন্ত তার অগ্রগতি কতখানি?

এ বছর শেষে ৯০ শতাংশ গ্রাহককে ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে পারব বলে আশা করছি। পাশাপাশি দেশের যারা ভবিষ্যৎ অর্থাৎ স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, তাদের পড়াশোনা যাতে বন্ধ হয়ে না যায়, সেজন্য সুলভে তাদের কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে চায় গ্রামীণফোন। দ্রুতই তাদের হাতে এ সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ও বেসরকারি সেলফোন অপারেটরদের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে এ-সংক্রান্ত কৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এ মুহূর্তে আমাদের সাড়ে ১৬ হাজারের মতো সাইট রয়েছে। এর মধ্যে ফোরজি সাইটের সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি। এটিকে ১৫ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন গ্রাহক যুক্ত হচ্ছেন। ফোরজি প্রযুক্তি সমর্থন করে এমন হ্যান্ডসেট যেসব গ্রাহকের রয়েছে, তাদের ৯০ শতাংশকে ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে চাই আমরা।

অপারেটরদের নেটওয়ার্কে নিয়মিত নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি কিছু গ্রাহক সংযোগ বন্ধও করে দেন, যা চার্ন হিসেবে পরিচিত। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কভিড পরিস্থিতিতে অপারেটরদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে উচ্চ চার্ন রেট। গ্রামীণফোন বিষয়টিকে কীভাবে দেখছে?

গ্রামীণফোনে এ পরিস্থিতিতে চার্ন নিয়ে তেমন কোনো উদ্বেগ নেই। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে চার্ন কিছুটা বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এ সময়ে গ্রাহকের ইউজেস প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। তবে নেটওয়ার্কেই রয়েছেন তারা। ফলে গ্রামীণফোনের চার্ন রেট গত বছরের চেয়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থায়ই রয়েছে।

মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি (এমএমপি) চালুর পর সিগনিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) অপারেটরের বিষয়ে ঘোষণা এসেছে। এখন এ খাতে প্রতিযোগিতার ধরন অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু নতুন পণ্য বা উদ্ভাবন দিয়েই বাজার দখলের প্রচলিত ধারণা বদলেছে কি?

যোগাযোগের বিশ্বটাই পরিবর্তিত হয়েছে। আগে ছিল শুধু ভয়েসনির্ভর সেবা, এরপর ডাটা। এখন ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের হাতে চলে এসেছে। ফলে প্রতিযোগিতাটা শুধু সেলফোন অপারেটরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈশ্বিক জায়ান্টদের সঙ্গেও এখন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রও এখন ভিন্ন হয়ে উঠেছে। এ কারণে স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে আমাদের। তবে দিন শেষে ইনোভেশন ও কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্সই গ্রামীণফোনের মূল শক্তি। গ্রামীণফোন যে পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা হলো গ্রাহককেন্দ্রিকতা। বিলিং নিয়ে গ্রামীণফোনের কোনো সমস্যা আছে বলতে পারবে না কেউ। এমনকি অডিট করেও তা প্রমাণ করতে পারবে না। গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কের সক্ষমতা নিয়েও কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। তবে ডাটা নেটওয়ার্ক ভয়েসের মতো হয় না। কোনো সাইটে ক্যাপাসিটির তুলনায় বেশি গ্রাহক চলে এলে ডাটাভিত্তিক সেবায় তার প্রভাব পড়ে। এখনো সারা দেশে নেটওয়ার্কের ব্যাপ্তি বিবেচনায় গ্রামীণফোনই সেরা। আগামীতেও গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক দেশের সেরাই থাকবে।

এমএনপি দিয়ে কখনো কোনো মার্কেটে কেউ সফল হয়নি। কারণ বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় প্রি-পেইড সংযোগই বেশি। প্রি-পেইড মার্কেটে সিম পরিবর্তন করে আরেকটা অপারেটরের নেটওয়ার্কে যাওয়া নিয়ে মানুষ খুব বেশি আগ্রহী নয়। গ্রাহকের কাছে একাধিক সিম সব সময়ই ছিল। অন্য অপারেটরের সংযোগ ব্যবহার করতে না চাইলে গ্রামীণফোনের সংযোগ যেমন ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি উল্টোটার সুযোগও রয়েছে গ্রাহকের। ফলে এমএনপি বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। সবাই মনে করত এমএনপি হলে গ্রামীণফোনের বড় ক্ষতি হবে, আসলে বিষয়টি উল্টো হয়েছে।

এসএমপি রেগুলেশনকে গ্রামীণফোন সব সময়ই স্বাগত জানিয়ে এসেছে। এরই মধ্যে এসএমপি রেগুলেশন হয়েছে, গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এক্ষেত্রে যেটা বলতে চাই কেউ যদি বিনিয়োগ করে এবং কোনো উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা নিয়ে আসে, তবে সেটাকে যেন নিরুৎসাহিত করা না হয়। এটি হলে গ্রাহকরাই বঞ্চিত হবেন। একজনের আয় ও মুনাফা অন্যজনকে দিয়ে দেয়া হলে গ্রাহকের জন্য উদ্ভাবনী সেবা নিয়ে আসার মানসিকতা আর থাকবে না। এসএমপি বাস্তবায়ন এমনভাবে হতে হবে, যাতে বাংলাদেশে আমাদের আরো বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনী সেবা নিয়ে আসার জন্য উৎসাহটা থাকে। এতে অন্যদের মধ্যেও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে গ্রাহকদের জন্য নতুন নতুন সেবা নিয়ে আসার তাগিদ তৈরি হবে। এখন পর্যন্ত যে তিনটি বিধিনিষেধ আমাদের ওপর আরোপ করা হয়েছে, সেগুলো আরো ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসএমপির কাঠামো ঠিক করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

বাংলাদেশে নানা ধরনের উদ্ভাবনী সেবা নিয়ে কাজ করছে অপারেটররা। এরই মধ্যে চালুও হয়েছে নানা সেবা। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের এসব উদ্ভাবনী সেবা কতটুকু মানসম্পন্ন?

আমরা এখনো ভয়েস ও ডাটাকেন্দ্রিক সেবার মধ্যেই রয়েছি। ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) বা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবাগুলো আমাদের আয়ের মূলধারায় যুক্ত হয়নি। গ্রাহকদের ব্যবহারের বিবেচনায়ও বিষয়টি একই রকম। তবে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বেশকিছু বড় বড় কাজ হয়েছে। আমরা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপ্লিট সলিউশন দিয়েছি। কানেক্টিভিটি, ডিভাইস, সিকিউরিটি, এডুকেশন প্লাটফর্ম—সব মিলিয়ে নিরাপদ একটি প্লাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কনটেন্ট শেয়ার করতে পারছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তারা লার্নিং ম্যানেজমেন্ট প্লাটফর্ম পরিচালনা করতে পারছে। এটা কিন্তু উদ্ভাবনী সেবা। গ্রামীণফোন এ সেবা দিচ্ছে। সিকিউরিটি, ইন্স্যুরেন্স, করপোরেট প্রতিষ্ঠান অটোমেশন, শিল্প-কারখানা অটোমেশন এখনো বাংলাদেশে পুরোপুরি আসেনি। তার পরও নিউ নরমাল পরিস্থিতিতে কানেক্টিভিটির ওপর ভিত্তি করে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প-কারখানাগুলোতে উদ্ভাবনী সেবা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। সমস্যা থেকেই নতুন নতুন উদ্ভাবনের সূত্রপাত হয়। নতুন কিছু নিয়ে আসার প্রতি সব সময়ই আগ্রহী ছিল গ্রামীণফোন। এখন যেহেতু গ্রাহকের দিক থেকে বিভিন্ন সেবার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে, তাই সামনের দিনগুলোতে আরো নতুন নতুন অনেক উদ্ভাবনী সেবাই দেখতে পাওয়া যাবে।

নেটওয়ার্কের প্রাপ্যতা বিবেচনায় গ্রামীণফোনের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক ধারণা ছিল। বর্তমানে এটির বাস্তবতা কতটুকু?

গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক দেশসেরা, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ডাটা নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ভয়েস নেটওয়ার্কের থেকে ভিন্ন। কোনো সাইটে ডাটা ট্রাফিক সক্ষমতার চেয়ে বেশি হয়ে গেলে গ্রাহকের অভিজ্ঞতা খারাপ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সক্ষমতার উন্নয়ন করা হলে ভালো সেবা পাবেন গ্রাহক। ফলে ডাটা সেবার ক্ষেত্রে এ ধরনের তুলনা অনেক বেশি। আমরা কেন বলি আমাদের নেটওয়ার্ক সেরা, সেটারও ব্যাখ্যা আছে। ওপেন সিগন্যাল, ওকলার মতো কিছু কিছু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান আছে যারা গ্রাহকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অপারেটরদের সেবার মান পরিমাপ করে। গত বছরের শেষে বাংলাদেশের সেরা ডাটা নেটওয়ার্ক হিসেবে গ্রামীণফোনকে উল্লেখ করেছে তারা। তবে এর মানে এ নয় যে দেশের সব জায়গায় গ্রাহকের অভিজ্ঞতা একই রকম হবে। আমাদের কাজই হলো নিয়মিতভাবে গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন করা। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গ্রাহকসেবা কেন্দ্রগুলো ছাড়াও নেট প্রমোটার সার্ভে (এনপিএস) স্কোরের বিবেচনায় সেবার মান যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে আমাদের। এনপিএস স্কোরে গ্রামীণফোন এখনো দেশের সেরা নেটওয়ার্ক।

সেরা নেটওয়ার্ক বলছেন, সেক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্কের কোন বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান? পাশাপাশি গ্রাহক সংখ্যার বিবেচনায় গ্রামীণফোনের তরঙ্গ তুলনামূলক কম হওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

আমাদের নেটওয়ার্কের বিশেষত্ব হিসেবে প্রথমেই উল্লেখ করা প্রয়োজন যে গ্রামীণফোনই একমাত্র অপারেটর যার প্রতিটি সাইটই ডাটা নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত। হয় ফোরজি, নয়তো থ্রিজি। ২৪ বছর ধরে আমরা যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি, তা ব্যবহার করে বিরতিহীনভাবে নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কাজ করে চলেছি। দেশে কভিড-১৯ শনাক্তের প্রথম দিকে যখন ঢাকা ছেড়ে গেলেন অনেকেই, তখন সারা দেশে নেটওয়ার্ক টিউনিং-ফাইন টিউনিং করতে হয়েছে আমাদের। সে সময় মাত্র এক সপ্তাহে নেটওয়ার্কের ৪০ হাজারের বেশি অপটিমাইজেশন করেছি আমরা।

গ্রাহক যে কারণে আমাদের সেবার ওপর নির্ভরশীল, অবশ্যই তা দেয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে বলে আমরা মনে করি। গ্রাহকের কাছে ডাটা প্যাক বিক্রি করার পর তিনি তা ব্যবহার করতে পারলেন না, এমন নেটওয়ার্কে আমরা বিশ্বাসী না। কারণ গ্রামীণফোন বাংলাদেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রামীণফোনই একমাত্র অপারেটর যারা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সেবার মান বজায় রেখেছে। আমরা শহরকেন্দ্রিক বা স্থানভিত্তিক অপারেটর না। গ্রামীণফোন দেশব্যাপী একই মানের সেবা দিতে সক্ষম এমন অপারেটর।

তরঙ্গ ছাড়াও বিভিন্নভাবে গ্রাহককে মানসম্পন্ন সেবা দেয়া সম্ভব। আমাদের পুরো নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন করছি। এখন আমরা যে নেটওয়ার্ক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছি তা ফাইভজির জন্য ব্যবহার করা হয়। আমাদের নেটওয়ার্ক এখন অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সক্ষমতায় সেবা দিতে পারে। এছাড়া গ্রাহকদের সেরা মানের সেবা দিতে সেল স্প্লিট প্রযুক্তি ব্যবহার করি আমরা। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ তরঙ্গ ব্যবহার করে সেল স্প্লিটের মাধ্যমে ক্যাপাসিটি বাড়ানো হয়। তরঙ্গ থাকলে এটির প্রয়োজন ছিল না। বিকল্প হিসেবে আমরা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে মানসম্পন্ন সেবা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এর কারণ বাংলাদেশে তরঙ্গের দাম অনেক বেশি। সুলভে তরঙ্গপ্রাপ্তির জন্য এরই মধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি আমরা। গ্রামীণফোন তরঙ্গ কিনতে চায়। কারণ সেবার মান ধরে রাখতে বিদেশ থেকে নেটওয়ার্ক যন্ত্রাংশ আনায় দেশের বাইরে প্রচুর অর্থ চলে যাচ্ছে। তরঙ্গ কিনলে এ অর্থ দেশেই থেকে যাবে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ অপারেটর হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করছে। বিশ্বব্যাপী হুয়াওয়ে নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তাতে গ্রামীণফোনের ওপর কোনো প্রভাব পড়ছে কি?

বিষয়টি আমাদের নেটওয়ার্ক উন্নয়নে বর্তমানে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও নয়। হুয়াওয়ের সঙ্গে টেলিনরের যে চুক্তি রয়েছে তার আলোকেই কার্যক্রম চলছে। আমাদের গ্রাহকদেরও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

গ্রামীণফোনের প্রথম বাংলাদেশী সিইও আপনি। ভবিষ্যতে হয়তো বাংলাদেশী আরো অনেকেই এ দায়িত্বে আসবেন। নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছতে হলে কী কী দক্ষতা অর্জন প্রয়োজন বলে মনে করেন?

আমার শিক্ষাজীবনের পুরোটাই বাংলাদেশে। ধানমন্ডির কাকলী হাইস্কুলে পড়েছি, ঢাকা কলেজে পড়েছি, আবুজর গিফারী কলেজ থেকে বিকম পাস করেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ করেছি। এরপর কর্মজীবনে প্রবেশের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা করেছি। লন্ডন স্কুল অব বিজনেসে পড়েছি, সিঙ্গাপুর ও ফ্রান্সে ইনসিয়াডে পড়াশোনা করেছি। তবে এগুলোকে আমি বিবেচনায় নিতে চাই না, কারণ পেশাগত প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানে পড়তে হয়েছে। কর্মজীবনে প্রবেশের আগে আমার পড়াশোনা বাংলাদেশেই। এমন আরো অনেক বাংলাদেশী সিইও রয়েছেন। গ্রামীণফোনে বাংলাদেশী সিইও পেতে একটু সময় লেগেছে।

এর আগে যখন অন্য একটি খাতে ছিলাম, তখন পাকিস্তানে কাজ করতে হয়েছে। গ্রামীণফোনে যোগ দেয়ার পর টেলিনরের হয়ে ভারতে কাজ করেছি। ভারতের দুটি রাজ্যে টেলিনরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি আমি। এরপর বৈশ্বিক পর্যায়েও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মেধার কোনো ঘাটতি নেই। বরং তারা অনেক বেশি পরিশ্রমী ও মেধাবী। শুধু যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সাহস রাখতে হবে যে আমরাও পারি। ক্যারিয়ার শুরুর প্রথম দিকে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি নতুন কিছু জানার ও শেখার আগ্রহ তৈরি করতে হবে। আমার মধ্যে এগুলো ছিল না। আমি ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছি। প্রতিদিন কিছু জানার আগ্রহ থাকে, কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা থাকে তাহলে নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব। আরেকটি বিষয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হলো সততা ও কাজের স্বচ্ছতা। করপোরেট ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে এ দুটি বিষয়ও অত্যন্ত জরুরি। কারণ আপনাকে কর্মীর আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। কর্মীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত মানে কাজ আদায় করতে হলে এ বিশ্বাস অর্জন করা প্রয়োজন। এটা একদিনে আসে না। কর্মী যদি দেখেন আপনি স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তখন তিনিও আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা পাবেন।

দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। এ অভিজ্ঞতা থেকে জানতে চাই বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিবেশ অন্য দেশগুলোর তুলনায় কতটুকু বিনিয়োগবান্ধব? এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা কী?

নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে চ্যালেঞ্জ থাকবে না, বিতর্ক থাকবে না—সাধারণত এটা হয় না। সব জায়গায়ই তা আছে। তবে নিয়ন্ত্রণ পরিবেশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। নীতি বিষয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, এমনকি আদালতেও তা গড়াতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে দাবির ভিত্তিটা যেন শক্ত হয়। পরিবেশ উন্নয়নের সুযোগ সব সময়ই রয়েছে। কিছুদিন আগে একজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বাংলাদেশে ১০-১৫ বছর আগে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কথা বলা হতো। এখন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা’ শব্দ দুটিই ভুলে গেছে। এটি ইতিবাচক। তবে এখন যেটা রয়েছে, তা হলো ব্যবসায় পরিবেশের অনিশ্চয়তা। একটা দেশে করহার বেশি হতেই পারে। কিন্তু বছরের মাঝখানে বিভিন্নভাবে এসআরও দিয়ে করহার আরোপ করা হচ্ছে। এ ধরনের অনিশ্চিত ব্যবসায় পরিবেশ বিনিয়োগের জন্য নেতিবাচক। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে আমরা আরো বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারব। আরেকটি ইতিবাচক বিষয় রয়েছে। একসময় লালফিতার দৌরাত্ম্যের কথা বলা হতো। এখন আর তা বলতে শোনা যায় না। অটোমেশন-ডিজিটালাইজেশনের প্রক্রিয়া চলছে। ডিজিটালাইজেশনের সুফলগুলো কাজে লাগাতে পারলে অনেক দ্রুত কাজ হবে, অনেক বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। প্রতিটি খাতে এটি নিশ্চিত করতে হবে। আমি আশাবাদী মানুষ। আমি মনে করি বাংলাদেশে শিগশিরই এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ শহর থেকে গ্রামে চলে গেছে। বিষয়টি গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলেছে?

কভিড-১৯ সংক্রমণের শুরুতে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। ঢাকা ছাড়াও অন্য বড় শহরগুলো থেকেও গ্রামে চলে গিয়েছিল মানুষ। এ পরিস্থিতি এখন পরিবর্তন হচ্ছে। অনেকেই শহরে ফিরে আসছে। তবে এখনো আগের মতো অবস্থায় আসেনি। অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় রয়ে গেছে।

আমাদের গ্রাহকদের একটা অংশ ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিলেন। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষ যেমন ছিলেন, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত এমন মানুষও ছিলেন। নিম্ন আয়ের মানুষ অনেকেই কাজ হারিয়েছিলেন। আবার সে সময় অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যারা প্রচুর কথা বলতেন তাদেরও সেলফোন সেবার ব্যবহার কমে গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি এখন পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেলফোনের ব্যবহারও বাড়ছে।

আমাদের পরিকল্পনা হলো এ বছরের মধ্যে ফোরজি নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেয়া। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিটিআরসি আমাদের সহায়তা করছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে অনেক স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে। আরো অনেক স্টার্টআপ আসছে। স্টার্টআপগুলো সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই।

করোনার কারণে একটা আঘাত এসেছে ছোট-বড় সব কোম্পানির ওপরই। স্টার্টআপগুলোর জন্য এ আঘাত আরো বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের যেসব স্টার্টআপ ভালো করছিল তারাও কিন্তু এর মধ্যে রয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, টিকে থাকতে হবে। পুরনো কিছুকে আঁকড়ে ধরে বসে থাকলে চলবে না। প্রতিষ্ঠানের ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। বিনিয়োগ করতে হবে সঠিক স্থানে। পরিকল্পনা করে অর্থ ব্যয় করতে হবে তাদের। গ্রামীণফোনের মতো এত বড় কোম্পানিরও কিন্তু এখন চিন্তা করতে হচ্ছে ব্যয় কমানোর। সঠিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে ভাবতে হচ্ছে আমাদের। করোনার এ পরিস্থিতিকে সমস্যা হিসেবে নয়, আমি সুযোগ হিসেবে দেখছি। আর এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে নতুনভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যে সমস্যাগুলো আমাদের সামনে আসছে, ধৈর্যের সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধানে স্টার্টআপগুলো বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আমি মনে করি।

বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ৭ অক্টোবর, ২০২০ | নিউজ লিংক | নিউজ লিংক

Related Articles

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker