২৮২ ভিএসপি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছে না

ব্যবসায়িক সক্ষমতা অর্জন না করায় লাইসেন্স ফি ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে শুরু থেকেই জটিলতায় পড়ে ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যেই চলতি বছর প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়ে যায়। সম্প্রতি তা নবায়নের জন্য আবেদন করতে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এতে সাড়া দিয়ে নির্ধারিত সময়ে আবেদন করেছে ৫৯৮টি প্রতিষ্ঠান। আবেদন না করায় বাকি ২৮২টি ভিএসপি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ পাচ্ছে না।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান বন্ধের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ভিএসপি লাইসেন্স দেয়া হয়। ওই বছরের মার্চে ৮৪০টি ও একই বছরের আগস্টে আরো ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছর মেয়াদে এ লাইসেন্স দেয় বিটিআরসি। এ হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ৮৪০টি ও আগস্টে ৪১টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হবে। তবে এরই মধ্যে একটি ভিএসপির লাইসেন্স বাতিল করেছে কমিশন। ভিএসপিগুলোর ভবিষ্যৎ লাইসেন্স নবায়নসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় গত বছর কমিশনের লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে আট সদ্যস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
গত বছরের নভেম্বরে দেয়া এক নির্দেশনায় ভিএসপিগুলোকে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করতে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। এতে সাড়া না পাওয়ায় আবেদনের সময় আরো সাতদিন বাড়িয়ে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ সময় শেষে আর কোনো আবেদন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে আবেদন করেছে ৫৯৮টি প্রতিষ্ঠান।
এদিকে ভিএসপিগুলোর কাছে ২০১৪-১৫ সালের সম্পূর্ণ ও ২০১৫-১৬ সালের আংশিক লাইসেন্স ফি পাওনা রয়েছে সরকারের। বকেয়া এ অর্থ আদায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। তবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডারের (বিএভিএসপি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া অর্থ প্রদানে চূড়ান্ত সময় দিয়েছে কমিশন।
বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, বিএভিএসপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বকেয়া লাইসেন্স ফি প্রদানে এক মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এরপর সময় বাড়ানোর আবেদন আর বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর দিতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। এছাড়া বার্ষিক লাইসেন্স ফি ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। লাইসেন্সিং নীতিমালা অনুযায়ী আয়ের ১০ শতাংশ সরকারকে দেয়ার কথা ভিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে ব্যবসায়িক সক্ষমতা অর্জন করতে না পারায় বার্ষিক লাইসেন্স ফি মওকুফ ও আয়ের ভাগাভাগির অংশ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম বছরের লাইসেন্স ফি মওকুফ ও দ্বিতীয় বছরের লাইসেন্স ফি কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি।
বিএভিএসপি সূত্রে জানা গেছে, ভিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করার কথা। লাইসেন্স পেলেও টেলিযোগাযোগ-কাঠামোয় ভিএসপির অবস্থান নির্দিষ্ট না করায় এবং আইজিডব্লিউর সঙ্গে আয়ের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় ভিএসপিগুলো শুরুতেই বিপাকে পড়ে। যথাসময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় ভিএসপিগুলো দুই বছরের জন্য লাইসেন্স ফি মওকুফের আবেদন করে।
আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) চালুর পর আবারো জটিলতায় পড়ে ভিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভিএসপি বরাদ্দের বিষয়ে নতুন করে নির্দেশনা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) আওতায় ভিএসপির কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এজন্য প্রতিটি আইজিডব্লিউর বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিএসপি বরাদ্দ দেয়া হয়। ভিএসপিগুলোর কাছ থেকে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইওএফের আওতায় থাকা সব আইজিডব্লিউগুলোর আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল বিবেচনা করে ভিএসপি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আয়ের ভাগাভাগির অংশ দিচ্ছে ভিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের জুলাইয়ে ভিএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করে বিটিআরসি। ওই বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ আবেদন গ্রহণ করা হয়। লাইসেন্স নিতে মোট ১ হাজার ৫০৯টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য অনুমোদন দেয় কমিশন। পরবর্তীতে লাইসেন্স গ্রহণ করে ৮৮১ প্রতিষ্ঠান। লাইসেন্স ফি বাবদ ৪৪ কোটি ৫ লাখ টাকা প্রদান করে প্রতিষ্ঠানগুলো।
বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ | নিউজ লিংক



