ভিএসপি লাইসেন্সের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি

অবৈধ পথে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান বন্ধের লক্ষ্যে ২০১২ সালে ভিওআইপি লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আবেদন বাছাই শেষে গত বছর যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে লাইসেন্স নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। তবে ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডার (ভিএসপি) নামে দেয়া এ লাইসেন্সের সঠিক সংখ্যা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।
বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রথম দফায় ৮৪৪টি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত ফি দিয়ে লাইসেন্স নেয়। পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে তালিকায় থাকা ১৫৯টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স ফি জমাদানের জন্য সময় দিয়ে নির্দেশনা জারি করে কমিশন। নির্ধারিত সময়ে ৬৪টি প্রতিষ্ঠান ফি জমা দেয়ায় তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়। সে হিসাবে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০৮। লাইসেন্সিংয়ের এ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে গত বছরের আগস্টে।
এদিকে কমিশনের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে ভিএসপি লাইসেন্সের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৮৪০। গত বছরের ডিসেম্বরে কমিশন বৈঠকেও এ লাইসেন্সের সংখ্যা ৮৮৫ বলে উল্লেখ রয়েছে। আর চলতি বছরের মে মাসে বৈঠকে ভিএসপি লাইসেন্সের সংখ্যা বলা হয় ৮৮২।
লাইসেন্সের সংখ্যার বিভিন্নতার বিষয়ে বিটিআরসির কাছে জানতে চাইলে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া উইং) জাকির হোসেন খান বণিক বার্তাকে জানান, কমিশনের ইস্যু করা ভিএসপি লাইসেন্সের সংখ্যা ৮৮১।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ভিওআইপি সার্ভিস প্রোভাইডারের (বিএভিএসপি) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার রোমেল বলেন, লাইসেন্সের সংখ্যা নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তি থাকার কথা নয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের পরই লাইসেন্স ইস্যু করার নিয়ম থাকায় এ সংখ্যা কমবেশি হওয়ার সুযোগ নেই।
২০১২ সালের জুলাইয়ে ভিএসপি লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করে বিটিআরসি। গত বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ সময়ে মোট ১ হাজার ৫০৯টি আবেদন জমা পড়ে। বিটিআরসির দেয়া মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৪টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে লাইসেন্সের জন্য মনোনীত করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
এছাড়া লাইসেন্স পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সেবা চালুর বাধ্যবাধকতা দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এতে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়। তবে ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোর (আইজিডব্লিউ) সঙ্গে আয়ের অর্থ ভাগাভাগির অংশ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় শুরুতেই জটিলতায় পড়ে ভিএসপিগুলো। এতে নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি তারা। পরবর্তীতে লাইসেন্সিং নীতিমালা সংশোধনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় কমিশন।
উল্লেখ্য, ভিএসপি লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইজিডব্লিউ) মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করে। ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ সেবা দিচ্ছে ভিএসপিগুলো। বর্তমানে দেশে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯।
বণিক বার্তায় প্রকাশিত | ১৬ অক্টোবর, ২০১৪ | নিউজ লিংক



